একটি ওয়েবসাইট আপনার সারা জীবনের স্থায়ী উপার্জনের রাস্তা। দেখুন কিভাবে।


একটি ওয়েবসাইট আপনার সারা জীবনের স্থায়ী উপার্জনের রাস্তা । দেখুন কিভাবে। - How to Earn from Website

অবিশ্বাস হলেও আসলেই সত্যি একটি ওয়েবসাইট হতে পারে আপনার সারা জীবনের স্থায়ী উপার্জনের রাস্তা। তাহলে চলুন দেখি কিভাবে? আমরা জানি বাস্তব জীবনে আয়ের দুটি রাস্তা এক, চাকরি করা এবং দুই, ব্যাবসা করা। ঠিক একই ভাবে বাস্তব জীবনের মত অনলাইনেও আমরা চাকরি এবং ব্যবসা দুটোই করতে পারি। আর আজকে আমি সজিবুল ইসলাম আপনাদের সাথে কথা বলব অনলাইনের একটি স্থায়ী ইনভেস্ট সম্পর্কে যেটা আপনি একবার করলে সারাজীবন বসে বসেই খেতে পারবেন। হ্যা, এমন একটি ইনভেস্ট হচ্ছে একটি ওয়েবসাইট। তো কিভাবে নিজের একটি ওয়েবসাইট বানাবেন? সকল বিষয়ে জানতে পাড়বেন।

শুরুতেই একটু জানি, মানুষ কেন ওয়েবসাইট তৈরি করে?

একটি ওয়েবসাইট হচ্ছে আপনার যে কোন প্রতিষ্ঠানের অনলাইন পরিচয়। যে কোন কোম্পানি, স্কুল, কলেজ, ব্যাবসা ইত্যাদি সকল প্রতিষ্ঠান তাদের নামে ওয়েবসাইট করে থাকে যাতে করে ইন্টারনেটে তাদের সম্পর্কে জানা যায় এবং তাদের বিভিন্ন সেবা বা সার্ভিস সম্পর্কে মানুষ যেন সহজেই জানতে পারে। এই জাতীয় ওয়েবসাইট গুলো হচ্ছে মূলত প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট।

কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটের বাইরেও কিন্তু রয়েছে আরও প্রচুর ওয়েবসাইট যেগুলো হচ্ছে ব্যক্তিগত, ম্যাগাজিন, টেকনোলজি বা আর অনেক ধরনের ওয়েবসাইট। এই ধরণের ওয়েবসাইট গুলোতে সাধারণত বিভিন্ন টিপস, ট্রিক, আইডিয়া, বিনোদন, খবর ইত্যাদি বিষয় দেয়া হয়ে থাকে। এই গুলোকে আপনি অ-প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট ও বলতে পারেন। এই ধরনের ওয়েবসাইট গুলো করা হয় সাধারণত সখের বসে অথবা, লং টাইম ব্যাবসা করার জন্য।

যেমন ধরুন, বাংলা ভাষায় বর্তমানে সবচেয়ে বড় টেকনোলোজি সাইট কোনটি? অবশ্যই, টেকটিউনস। এটা কিন্তু কোন প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট নয়, এটা হচ্ছে টেকনোলজি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট বা ব্লগ যেখানে বিভিন্ন মানুষ বা লেখকেরা টেকনোলজি বিষয়ে তাদের বিভিন্ন জ্ঞান শেয়ার করে। এতে করে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক টেকটিউনে প্রবেশ করে বিভিন্ন বিষয় শেখার জন্য। তাহলে টেকটিউন হচ্ছে একটি নন-প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট। টেকটিউনস কিন্তু হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে তাদের ওয়েবসাইট এ বিভিন্ন কম্পানির বা ব্যান্ড এর এড বসিয়ে। কি আপনি কি পাড়বেন না?? আমি ফেসবুকে

ঠিক একই ভাবে আপনিও যদি এই ধরনের একটি ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠা করে সঠিক জায়গায় নিয়ে আসতে পারেন তাহলে আপানার বাকী জীবন এই ওয়েবসাইট দিয়েই চালিয়ে দিতে পারবেন।

ওয়েবসাইট কি?

What is Website? - ওয়েবসাইট কি?

একই ডোমেইনের অধীনে একাধিক ওয়েবপেজের সমষ্টিই ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইটে প্রথম ঢুকলে যে পেজটি প্রদর্শিত হয় সেটিকে হোমপেজ বলা হয়। সারা বিশ্বে প্রতিদিন হাজার হাজার ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে। ইন্টারনেট তথা ওয়েবে তথ্য (লেখা, অডিও, ভিডিও, স্থির চিত্র, অ্যানিমেশন ইত্যাদি)সংবলিত পেজ রাখা যায়। ওয়েবে এরূপ কোন তথ্য রাখার পেজকে ওয়েবপেজ বলে। সরাসরি এইচটিএমএল এর মাধ্যমে বা অন্যকোন টুলস দারা ওয়েবপেজ তৈরি করা যায়। ব্রাউজারের মাধ্যমে ওয়েবপেজকে প্রদর্শন করা যায়। একটি ওয়েবসাইটের যে কোন একটি সিঙ্গেল পেজকে ওয়েবপেজ বলে ।

ইন্টারনেটে একটি ওয়েবসাইট খুলতে যা যা করতে হয়ঃ

  • প্রথমত একটি ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
  • ভালো মানের হোস্টিং ভাড়া নিতে হবে।
  • ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে হবে।

উন্নত মানের ডোমেইন হোস্টিং এবং ওয়েবসাইট ডিজাইন সার্ভিস পেতে ভিজিট করুন এখানে

ডোমেইন কি?

What is Domain? - ডোমেইন কি?

ডোমেইন ইংরেজি শব্দ যার বাংলা অর্থ স্থান। আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট খুলতে চান তবে ইন্টারনেটে আপনাকে একটি স্থান তথা ডোমেইন কিনতে হবে। আপনার অফিসে যদি কেউ আসতে চায়, তবে তাকে এর ঠিকানা জানতে হবে। ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে এই ঠিকানাটা হচ্ছে তার নাম যাকে বলা হয় ডোমেইন নেম। এই ডোমেইন নেমই আপনার ওয়েবসাইটকে অনন্যভাবে আইডেন্টিফাই করবে। বিশ্বের সবাই ওয়েবসাইটটিকে চিনবে এবং একসেস করবে এ নাম ব্যবহার করে। ডোমেইন কিনতে ভিজিট করুন এখানে

হোস্টিং কি?

ধরুন আপনি একটি দোকানের ট্রেড লাইসেন্স করলেন, তাতেই কি আপনার দোকান চালু হযে যাবে? না! আপনার একটি ঘর দরকার যেখানে আপনি আপনার মালামাল রাখবেন এবং ক্রেতারা আসবে কেনাকাটার জন্য। এই ঘরটি যত বড় হবে তত বেশি মালামাল রাখতে পারবেন এবং আপনার ক্রেতাও তত বেশি ভিড় করবে। ঠিক একই ভাবে আপনি ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন করে রেখে দিলেই আপনার কাজ হবেনা। আপনার ওয়েব ফাইল গুলো যেমন HTML, PHP, JS, CSS, Audio, Video, Picture রাখবার জন্য একটি জায়গা দরকার তো এই কন্টেন্ট রাখার জায়গা ই হল হোস্টিং। এখান থেকে হোস্টিং অডার করুন

তাহলে কিভাবে একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ থেকে আয় করা যায়?

শুরুতেই বলে নেই, নতুনদের মাঝে ওয়েবসাইট বা ব্লগ নিয়ে বেশ ভাল কনফিউশন দেখা যায়। আসলে ব্লগ হচ্ছে এক ধরনের ওয়েবসাইট যেখানে নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে লিখালিখি করা হয়। সেটা হতে পারে যে কোন বিষয়। আর ওয়েবসাইট হচ্ছে এক ধরনের সাইট যেখানে সাধারণত তেমন কোন চেঞ্জ হয় না, বা যেখানে লিখালিখির ব্যাপার থাকে না। আপনি ওয়েবসাইট বা ব্লগ যেটাই করুন না কেন সেখান থেকে অবশ্যই আয় সম্ভব। চলুন সামনের দিকে এগুনো যাক।

অনেক কষ্ট করে রাত জেগে আপনাদের জন্য লিখলাম যদি লেখাটি ভালো লেগে থাকে ও লেখাটি থেকে একটুও উপকৃত হন তাহলে আমার ইউটিউব চ্যানেলটা সাবস্ক্রাইব করুন ও ফেসবুকে শেয়ার করুন।

ওয়েবসাইটের সুবিধা কি?

বর্তমানে ইন্টারনেটের এ যুগে সবচেয়ে স্বল্প সময়ে স্বল্প খরচে তথ্য প্রকাশ করার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইটের বহু সুবিধা রয়েছে যেমন -

  • ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য যে কেও যেকোন স্থান থেকে যে কোন সময় দেকতে পারে।
  • ওয়েবসাইটে তাৎক্ষনিক তথ্য প্রকাশ করা যায়।
  • ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যক্তি বা পোতিষ্ঠানের নাম সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।
  • ওয়েবসাইটে লেখা, অডিও, ভিডিও, স্থির চিত্র, অ্যানিমেশন ইত্যাদি যুক্ত করা যায়।
  • ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঘরে বসে আয় করা যায়।
  • ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একে ওপরের সাথে যোগাযোগ রাখা যায়।
  • ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ডাউনলোড করা যায়।

বর্তমানে এই ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড এ সকল কিছু ইন্টারনেটে অর্থাৎ ওয়েবসাইটেই করা যায়। বলতে পারেন ইন্টারনেট মানেই ওয়েবসাইট, একবার ভাবুন তো ওয়েবসাইট ছাড়া ইন্টারনেট দিয়ে কি করবেন? ফেসবুকও তো একটা ওয়েবসাইট! গুগলও তো একটা ওয়েবসাইট! আমাজনও তো একটা ওয়েবসাইট! তাই নয় কি?? আশা করি বুঝতে পেরেছেন ওয়েবসাইটের সুবিধা কি। আমার সম্পর্কে জানুন

ওয়েবসাইট বা ব্লগ থেকে আয় করার পদ্ধতি

How to Earn Money from Website?

১. বিজ্ঞাপন থেকে আয়ঃ

আপনার ওয়েবসাইটে যদি বেশ ভাল ট্রাফিক (ট্রাফিক হচ্ছে ভিজিটর বা মানুষ যারা আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করবে) থাকে তাহলে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে অন্যান্য কোম্পানীর বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করিয়ে সেখান থেকে আয় করতে পারেন।

যেমন- আমরা প্রায় সময়ই বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ঢুকলে ওয়েবসাইটের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পন্যের বিজ্ঞাপন দেখে থাকি। এই জাতীয় বিজ্ঞাপন গুলো ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করানোর মাধ্যমে আপনি আয় করতে পারেন। আপনার ওয়েবসাইটে যে কোম্পানির বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করাবেন সেই কোম্পানী আপনাকে একটি নির্দিষ্ট মূল্য পে করবে তাদের বিজ্ঞাপন আপনার ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করানোর জন্য।

তাহলে এবার বলতে পারেন, এই সকল কোম্পানির বিজ্ঞাপন পাব কোথায়? এই ধরনের বিজ্ঞাপন পাওয়ার জন্য অনলাইনে অনেক জনপ্রিয় সাইট আছে (যেমন- গুগল অ্যাডসেন্স)। এই সকল সাইট থেকে কিভাবে অ্যাড নিবেন এবং কিভাবে আয় হবে সেটা নিয়ে ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে বিস্তারিত আলচনা করা হবে। এখন শুধুওয়েবসাইট থেকে আয় করার কিছু প্রসেস সম্পর্কে জানি।

২. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়ঃ

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে অনেকটা সেলসম্যান এর মত। এখানে, আপনাকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য বিক্রি করে দিতে হবে এবং প্রতিবার যখন আপনি অন্য কোম্পানির কোন পণ্য আপনার নিজের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারবেন তখন আপনাকে সেই বিক্রয়কৃত অর্থ থেকে কমিশন দেয়া হবে। আপনি চাইলে আপনার ওয়েবসাইটে এই জাতীয় মার্কেটিং করতে পারেন। নিজের সাইট বা ব্লগ করে আমাদের দেশে অনেকেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করছেন। কাজেই আপনিও এই জাতীয় কাজ করে আয় করতে পারেন।

৩. নিজের কোন পন্য বিক্রি করে আয়ঃ

আপনার ওয়েবসাইট যদি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং প্রতিদিন বেশ ভাল ট্রাফিক থাকে তাহলে আপনি আপনার নিজের তৈরি করা কোন পন্যের বিজ্ঞাপন সেখানে দিতে পারেন এবং সেখান থেকে আপনি আপনার পন্যের জন্য বেশ ভাল সেল পেতে পারেন। তবে এটা শুধুমাত্র, যদি আপনার তৈরি করা কোন প্রোডাক্ট থাকে তাহলেই সম্ভব। আপনার যদি বিক্রি করার মত কোন পণ্য না থাকে তাহলে এই ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।

৪. ইমেইল কালেকশনঃ

আমরা সবাই মোটামুটি কম বেশি নেট থেকে বই, গান, ভিডিও ইত্যাদি ডাউনলোড করে থাকি। তবে, মাঝে মাঝে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে বই বা মুভি ডাউনলোড করতে গেলে আমরা দেখে থাকি আমাদের ইমেইল অ্যাড্রেস দিতে বলে। আমরা ইমেইল অ্যাড্রেস দিলে তারপর আমাদেরকে সেটা ডাউনলোড করতে দেয়। কিন্তু কেন এমনটা হয়, কেন ইমেইল এর ঠিকানা চায় ওই ডাউনলোড সাইট গুলো? এটা হচ্ছে এই জন্য যে, আপনি গান ডাউনলোড করার সময় আপনার যে ইমেইল এড্রেসটি দিবেন সেটি ওই ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ সংরক্ষন করে রাখবে। এই ভাবে যতজন ওই গানটি ডাউনলোড করতে তত জনের ইমেইল অ্যাড্রেস তার কাছে থাকবে।

এই ভাবে ধরলাম, ১০০০ জনের ইমেইল ওই ওয়েবসাইটের মালিকের কাছে জমা হল। এবার তিনি ওই ১০০০ ইমেইল অ্যাড্রেস বিভিন্ন ইমেইল মার্কেটারদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। কারন, অধিকাংশ ইমেইল মার্কেটিং এর জন্য অ্যাক্টিভ ইমেইল অ্যাড্রেস এর তালিকা প্রয়োজন পরে। এই জন্য বিভিন্ন ইমেইল মার্কেটাররা ইমেইল অ্যাড্রেস কিনে নেয় নিজেদের মার্কেটিং করার জন্য। আর আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট থাকে এবং আপনি এইভাবে ইমেইল অ্যাড্রেস সংগ্রহ করতে পারেন, তাহলে আপনিও এই ইমেইল অ্যাড্রেস গুলো বিক্রি করে আয় করতে পারেন।

কিন্তু সব থেকে বড় কথা কি জানেন!

ওয়েবসাইটে যদি ট্রাফিক বা ভিজিটর না থাকে তাহলে কোন লাভই নেই। কারন, যে সাইটের ভিজিটর নেই সেই সাইটে কেউই টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দিবে না। আর তাই যে কোন ওয়েবসাইট আপনার আয়ের উৎস তখনই হবে যখন আপনার সাইটটি জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এবং প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ লোক আপনার সাইট ভিজিট করবে। কিন্তু এই পর্যায়ে একটি ওয়েবসাইটকে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন প্রচুর পরিশ্রম আর ধৈর্য্য।

ওয়েব সাইট তৈরির আগে কয়েকটি প্রশ্ন যেনে নিন

Before Create a Website Guide

১. আপনার ওয়েবসাইটের লক্ষ ও উদ্দেশ্য কি?

যেকোন ওয়েব সাইট তৈরি করার আগে আপনাকে যে প্রশ্নটি করতে হবে তা হচ্ছে, ওয়েব সাইটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি? লক্ষ এবং উদ্দেশ্য ছাড়া যেকোন কাজ কোনভাবেই সফলতা পাওয়া যায়না। আর সেকারণেই আপনাকে ওয়েব সাইট তৈরি করার আগেই তা নির্ধারণ করতেই হবে, যা না করলেই নয়। কারন একটাই আপনি যদি কোন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছাড়া একটা ওয়েব সাইট তৈরি করেন এবং সেটার পিছনে আপনি সময় ব্যয় করলেন এবং একিই সাথে টাকাও খরচ করলেন , ওয়েব সাইট এর ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট করালেন, এবং একটা পর্যায়ে এসে আপনি চিন্তা করছেন, এই সাইটি দিয়ে আপনি কি করবেন? তাই কিছু করার আগে আপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে কাজ করুণ এবং সেকারণেই আপনি সফলটা পাবেন খুব সহজেই, যার জন্য আপনাকে বেশি একটা সময় অপেক্ষা করতে হবে না।

২. নিশ্চিত করুন আপনার ওয়েবসাইটের ডিজাইন কাকে দিয়ে করাবেন?

এমন কাউকে দিয়ে আপনার ওয়েবসাইটটি ডিজাইন করাবেন না, যাহাতে ওয়েব সাইটটি ভিজিটররা দেখা মাত্র দৌরে পালিয়ে যায়। এবং কাউকে দিয়ে ডিজাইন করাবেন, যে আপনার কাজ বুঝবে এবং আপনি কিভাবে চাচ্ছেন জানবে, অবশ্যই মনে রাখবেন এবং কাউকে দিয়ে ওয়েব ডিজাইন করাবেন না, যে কোনভাবেই ওয়েব ডিজাইনে অভিজ্ঞ নয়, একটা ভালো বাড়ির ডিজাইন করতে গেলে যেমন একজন ভালো আর্কিটেক্ট দরকার ঠিক তেমনি একটা ভালো মানে ওয়েব সাইট ডিজাইন করতে গেলে দরকার একজন ভালো মানের ওয়েব ডিজাইনার। আমরা নিজেররাই ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস দেই আপনি চাইলে খুব কম খরচে আমাদের কাছ থেকে আপনার ওয়েবসাইট ডিজাইন করিয়ে নিতে পারেন। বিস্তারিত জানুন এখানে অথবা আমাকে ফেসবুকে ইনবক্স করুন মোঃ সজিবুল ইসলাম

৩. অনলাইন কিংবা অফলাইনে ওয়েবসাইট নিয়ে মার্কেটে আপনার টার্গেট কি?

আপনি যেকোন কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই এর মার্কেট নির্ধারণ করে আপনার কাজ শুরু করবেন আর সেই জন্য আপনার এর মার্কেটিং গোল এবং টার্গেট কি সেটা আপনাকে বুঝতে এবং জানতে হবে। আর মার্কেটে আমাদের টার্গেট বুঝে আমাদেরকে কাজে মনোযোগ দিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যেতে হবে। চাহিদা অনুযায়ী ওয়েব সাইটটিও হতে হবে সুন্দর এবং Gorgeous একটা লুক যা দেখলেই যাহাতে সবার নজরে আসে এবং সেই সাথে রেডি করতে হবে ভালো কনটেন্ট।

৪. ওয়েব সাইটটি তৈরি করার জন্য আপনার সময় হবে কিনা?

একটি ওয়েব সাইট তৈরি করার জন্য আপনার সেই সময় আছে কিনা নেই তা নিজেকেই প্রশ্ন করুণ, কারণ তা না হলে আপনি ডিজাইনারের জন্য সময় দিবেন কিভাবে। আপনার পরিষ্কার ধারনা এবং স্বচ্ছ জ্ঞান থাকতে হবে একটা ওয়েব ডিজাইন করতে কত সময় লাগতে পারে, এবং সেই অনুযায়ী আপনি আপনার ডিজাইনারকে চিন্তা করে সময় দিয়ে ওয়েব সাইটটি ডিজাইন করাবেন।

৫. সাইট পরিচালনা করার জন্য যে খরচ দরকার তা আপনি বহন করতে পারবেন কি না ?

একটা ওয়েব সাইট তৈরি করার পর এর আনুসাঙ্গিক অনেক ধরণের খরচ থাকবে যেমন, পরবর্তী বছরের জন্য ডোমেইন হোসটিং রিনিউ, এসইও, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ইত্যাদি। যার জন্য একটা পরিমাণ টাকা দরকার, তা আপনি আসলেই বহন করতে পারবেন কিনা? একটা ওয়েব সাইট তৈরি করার পর যদি বন্ধ করতে হয়, তাহলে তৈরি করবেনই বা কেন? এই বিষয়ে আমার কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন। ফেসবুকে আমি

৬. ওয়েবসাইট নিয়ে আপনার একটি সুনির্দিষ্ট কর্ম পরিকল্পনা আছে কিনা?

মনে রাখবেন আপনি যদি প্ল্যান ছাড়া কোন কিছু করেন তাহলে আমি নিচ্ছিত আপনি নিচের প্রশ্ন গুলোর সম্মুখিন হবেন এবং তখন কোন প্রশ্নের উত্তর খুব্জে পাবেন না, তাই আগে থেকে সুনির্দিষ্ট কর্ম পরিকল্পনা করে কাজ শুরু করুণ, যাহতে কাজের অর্ধেক অবস্থায় গিয়ে নিচের প্রশ্নগুলো নিয়ে আপনাকে জামেলাই পরতে না নয়।

  • কিভাবে কি করবেন ?
  • কোথা থেকে শুরু করবেন ?
  • কিভাবে সফল হবেন ?

আপনাকে আগেই কর্ম পরিকল্পনা করে কাজ আরাম্ভ করতে হবে।

৭. Responsive ওয়েব ডিজাইনের কথা ভাবছেন কিনা?

বর্তমান মার্কেটে রেস্পন্সিভ ওয়েব সাইট ডিজাইন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রেস্পন্সিভ ডিজাইন উপকারিতা হচ্ছে, যেকোন ডিভাইসে যেমনঃ মোবাইল, ডেসকটপ, ল্যাপটপ, ট্যাব ইত্যাদির মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েব সাইটটি সুন্দর একটা ভিউ দেখতে পাবেন যা নন রেস্পন্সিভ ডিজাইনে দেখা সম্ভব নয়।

কি সিদ্ধান্ত নিলেন? কোনটা করবেন? ওয়েবসাইট নাকি ব্লগ?

অনেকেই কনফিউশনে থাকেন যে ওয়েবসাইট করবেন নাকি ব্লগ করবেন। কিন্তু এমনটার কারন হচ্ছে এই দুইটার মধ্যে পার্থক্য না বোঝা। আসলে ব্লগ আর ওয়েবসাইটের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। ব্লগ হচ্ছে এক ধরনের ওয়েবসাইট যেখানে বিভিন্ন লেখক তার লিখা পাবলিশ করতে পারে। আর সকল ব্লগকেই এক একটি ওয়েবসাইট বলা চলে। তাই যেহেতু পার্সোনাল বিজনেস বা বিজ্ঞাপন থেকে আয় করা হচ্ছে আমাদের ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য তাই আমার মতে ব্লগ সাইট বানানোই উত্তম কারন, এখানে আপনি নিয়মিত লিখতে পারবেন এবং নতুন নতুন লিখা পড়ার জন্য নিয়মিত বিভিন্ন ভিজিটর পেতে থাকবেন।

আর তাছাড়া, ব্লগিং হচ্ছে বর্তমান সময়ের প্রচুর জনপ্রিয় প্রেক্ষাপট। এর মাধ্যমে বিভিন্ন লেখক তার লিখা গোটা বিশ্বের কাছে ছড়িয়ে দিতে পারে। তবে, এর অপব্যবহার কারই কাম্য নয়।

কি বিষয়ে ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করবেন?

আসলে প্রথম অবস্থায় সবচাইতে বড় যে সমস্যাটি হয় সেটি হচ্ছে, কোন বিষয়ে ব্লগ করবেন সেটাই খুজে না পাওয়া? এটার মূল কারন হচ্ছে তাড়াহুড়া করা। আমরা যখন কোন উৎসাহমূলক লিখা পড়ি বা কারন সফলতার গল্প শুনি তখনই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি আমিও তেমন হব, এর জন্য যত পরিশ্রম করতে হয় করব। হ্যা, এমন ভাবাই শ্রেয়। কিন্তু আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে আমরা ধৈর্য্য ধরার চেস্টা করতে পারি না, আমাদের সব কিছু ইন্সট্যান্ট বা তৎক্ষণাৎ দরকার। আর এই জন্য শেষ পর্যন্ত আমাদের তেমন কিছুই হয় না। আর তাই যেহেতু আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইট একদিন বা দুইদিনের জন্য নয়, যেহেতু এটা সারা জীবনের জন্য তাই হুট করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন না যে আপনি কোন বিষয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করবেন। ভাবুন, দেখুন, শুনুন, বুঝুন তারপর সিদ্ধান্ত নিন আপনি কি করবেন এবং কেন করবেন এবং কিভাবে করবেন?

ব্লগ বা ওয়েবসাইটের বিষয় নির্বাচন করার ক্ষেত্রে কিছু টিপস

১. আপনি ভাল জানেন এবং আপনার ইন্টারেস্ট আছে এমন যে কোন বিষয়েই আপনি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। আপনি যেটাই জানুন না কেন সেটা নিয়েই শুরু করে দিতে পারেন লিখালিখি। শেয়ার করুন আপনার নিজের জ্ঞান। সেটা কোন বিষয় সেটা কোন ব্যাপার না, কোয়ালিটি থাকলে সব বিষয়েই সাইট করা যায়। এমন অনেকেই আছেন যারা তাদের সখের অনেক কিছু নিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করেও সেখান থেকে প্রতি মাসে কয়েক হাজার ডলার আয় করছেন।

২. আপনি আপনার পড়াশুনার বিষয়টিকে ওয়েবসাইট বানানোর কাজে লাগাতে পারেন। যেমন ধরুন, আপনি একজন বিজনেস ম্যানেজম্যান্ট এর ছাত্র। তাহলে আপনি চাইলে বিজনেস সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখির অভ্যাস করতে পারেন। আপনার সাইটে প্রতিদিন, সম্ভব না হলে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি করে পোস্ট লিখুন। চেস্টা করুন যেটা সেটা ইন্টারেস্টিং হয় এবং মানুষ বা ভিজিটর যাতে সেটা পড়ে নতুন কিছু জানতে পারে। এই ভাবে লিখতে থাকলে দেখবেন একসময় আপনি পার্মানেন্ট ভিজিটর পেয়ে যাবে যারা আপনার সাইট নিয়মিত ভিজিট করবে।

৩. তবে এই ক্ষেত্রে, কখনো হেজিটেশনে ভুগবেন না যে কি লিখব, কেমন হবে, কেউ পছন্দ করবে কিনা? আপনি সেটাই লিখবেন যেটা আপনি জানেন। লিখতে লিখতেই এক সময় আপনি আপনার ব্লগকে জনপ্রিয় করে তুলতে পারবেন। আপনি যত লিখবেন আপনার লিখা তত আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে থাকবে। একবার ব্লগ জনপ্রিয় হয়ে উঠলে সেখানে আপনি অন্যান্য লেখকদের ও আমন্ত্রণ করতে পারেন আপনার ব্লগ লিখার জন্য। এবং অন্যান্য ব্লগাররাও যদি আপনার ব্লগে লিখা শুরু করে দেয় তাহলেই তো কেল্লাফতে ! এরপর আপানাকে আর আশা করি পেছনে ফিরতে হবে না।

এই ভাবে যদি একটি সাইট কে দাড় করিয়ে ফেলতে পারেন তাহলে এখানে বিজ্ঞাপন সহ উপরোল্লেখিত উপায় সমূহ অবলম্বন করে আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে পার্মানেন্ট আয়ের উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন।

কতদিন লাগতে পারে একটি ওয়েবসাইট সম্পূর্ণরূপে সফল করতে?

আসলে এর কোন সঠিক উত্তর নেই। তবে এটা বলা যায় আপনি যদি বেশ কঠিন পরিশ্রম করতে পারেন তাহলে ৬-৭ মাসের মধ্যে আপনার সাইটটিকে একটি অবস্থানে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। তবে এর থেকে কম সময়েও অনেকে নিজের সাইটকে ভাল পর্যায়ে নিয়ে আসতে পেরেছেন। আবার অনেকে আছে ২ বছরের মধ্যেও সাইটের কোন উন্নয়ন করতে পারে না। তাই সম্পূর্ণ ব্যাপারটা আপনার উপর নির্ভরশীল। যদি সঠিক উপায় পরিশ্রম করতে পারেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটই হতে পারে আপনার সোনার ডিম পারা হাঁস।

তাহলে কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন?

আশা করি একটি ওয়েবসাইট থাকার গুরুত্ব কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছেন। যাই হোক এবার সিদ্ধান্ত আপনার হাতে। আজ এই পর্যন্তই। আগামী পর্বে ইনশাআল্লাহ একটি ওয়েবসাইট করতে কি কি লাগবে এবং কিভাবে করলে আপনার ওয়েবসাইটটি দ্রুত সফলতার দিকে এগুবে সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলচনা করব। পরের পর্বটি পেতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইটে! ভাল থাকবেন সবাই। আল্লাহ হাফিজ।

বিডিআইটি ওয়েব এর বিভিন্ন সার্ভিস সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

লিখাটি ভাল লেগে থাকলে ফেসবুকে আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। বাম পাসের শেয়ার অপশন থেকে সরাসরি আপনার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করুন পোস্টটি আপনাদের উৎসাহ-ই আমাদের অনুপ্রেরনা।



Catagory


Recent Posts



Top Posts in Category

Most Popular Posts